বিজ্ঞাপন
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে জানা গেছে, সরকারি খাতগুলোতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ প্যাকেজ সময়মতো পাস না হওয়ায় এই আইনি জটিলতা শুরু হয়েছে। মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো অর্থ বরাদ্দ বিল কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ও উচ্চকক্ষ (সিনেট)—উভয়পক্ষে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে আইনে পরিণত হয়। এই বিলটি প্রেসিডেন্টের দপ্তরে পাঠানোর সময়সীমা ছিল গতকাল শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত। কিন্তু বিলটি কেবল সিনেটে পাস হয়েছে; নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে এখনও পাস হয়নি।
বাজেট নিয়ে এই অচলাবস্থার পেছনে মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি। গত ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। সম্প্রতি মিনোসেটা অঙ্গরাজ্যে এই অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রিটি নিহত হলে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) বাজেট বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি সংক্রান্ত ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের তীব্র বিরোধিতা করছে ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য বেশি।
সিনেটের বিরোধী দলীয় নেতা চাক শুমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ট্রাম্প যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্ধিত বাজেট প্রস্তাব প্রত্যাহার না করেন, তবে নিম্নকক্ষে এই বিল পাস হতে দেবে না বিরোধী দল।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিভাষায়, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুত বরাদ্দ আটকে গিয়ে সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত খাতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়াকে ‘শাটডাউন’ বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ পর্যন্ত ১৮ বার এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা করছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই উভয় দল একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিলটি পাস হয়ে এই অচলাবস্থা কেটে যাবে।
শাটডাউনের ফলে বর্তমানে অনেক সরকারি সেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা নিয়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...