Logo Logo

মহারাষ্ট্রের প্রথম নারী উপমুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নিহত অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা


Splash Image

নিহত অজিত পাওয়ার ও তার স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার।

বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও এনসিপি নেত্রী সুনেত্রা পাওয়ার রাজ্যের নতুন উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজভবনে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পাওয়ার পরিবারে নতুন করে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


গত বুধবার পুনের বারামতি বিমানবন্দরে ‘ভিএসআর ভেঞ্চারস’-এর একটি ছোট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ ৫ জন নিহত হন। মুম্বাই থেকে বারামতি যাওয়ার পথে দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টাকালে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় পাইলট সুমিত কাপুর, সহ-পাইলট শম্ভবী পাঠক, নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিদিপ যাদব এবং বিমানবালা পিংকি মালিও প্রাণ হারান। দলের এই চরম সংকটে নেতৃত্ব ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ সচল রাখতে তড়িঘড়ি করে অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারকে স্থলাভিষিক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় এনসিপি। দায়িত্ব গ্রহণ করলে সুনেত্রা পাওয়ার হবেন মহারাষ্ট্রের প্রথম নারী উপমুখ্যমন্ত্রী।

অজিত পাওয়ারের উত্তরসূরি হিসেবে সুনেত্রার নাম ঘোষণা করা হলেও পরিবারের অভিভাবক ও এনসিপি (এসপি) প্রধান শারদ পাওয়ারের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বারামতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবীণ এই নেতা জানান, তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে শপথ গ্রহণের খবর জানতে পেরেছেন। অজিতের মৃত্যুর পর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া থেকে তাকে সরিয়ে রাখা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি নিস্পৃহভাবে জানান যে এ বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই।

২০২৩ সালের জুলাই মাসে অজিত পাওয়ার চাচার সঙ্গ ত্যাগ করে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিলে পাওয়ার পরিবার ও দলে ফাটল ধরে। তবে এনসিপি (এসপি) নেতা অঙ্কুশ কাকাদে দাবি করেছেন, অজিত পাওয়ার শেষ সময় পর্যন্ত দুই পক্ষের পুনর্মিলন চেয়েছিলেন। এমনকি গত ১২ ডিসেম্বর শারদ পাওয়ারের জন্মদিনে দল দুটিকে একীভূত করার ইচ্ছা থাকলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। অজিত পাওয়ার প্রবীণ নেতাদের অনুরোধ করেছিলেন যেন তারা শারদ পাওয়ারের সঙ্গে মধ্যস্থতা করে এনসিপিকে আবার এক ছাতার নিচে নিয়ে আসেন।

শারদ পাওয়ার জানিয়েছেন, দুই দলের একীভূত হওয়ার বিষয়টি এখন এনসিপি নেতা জয়ন্ত পাতিলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। পরিবারের এই শোকাবহ পরিস্থিতির মধ্যেই সুনেত্রা পাওয়ারের রাজনৈতিক উত্থান এবং শারদ পাওয়ারের সাথে দূরত্বের বিষয়টি মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শারদ পাওয়ার স্পষ্ট করেছেন, দলীয় সিদ্ধান্তে সুনেত্রাকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কেউ কোনো যোগাযোগ করেনি।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও পারিবারিক দূরত্বের মাঝেই আজ সন্ধ্যায় রাজভবনে সুনেত্রা পাওয়ারের শপথ গ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...