Logo Logo

১৮ কোটি মানুষের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন কাজ : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা


Splash Image

দেশের বিশাল জনসংখ্যার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা একটি অত্যন্ত জটিল ও কঠিন কাজ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, “আপনারা সবসময় বলেন আইনশৃঙ্খলা কন্ট্রোল করি না। অথচ দেখুন, এখানে আপনারা কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত আছেন, আপনাদের কথা বলা বন্ধ করতেও অনেক সময় লেগে যায়। সেখানে ১৮ কোটি মানুষের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সত্যিই ডিফিকাল্ট কাজ।”

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচন হবে অত্যন্ত সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি যথেষ্ট ভালো এবং নির্বাচন ঘিরে বড় কোনো অসুবিধার আশঙ্কা নেই।”

সাম্প্রতিক নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এসব ঘটনার বেশিরভাগই রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ঘটছে। তুচ্ছ বিষয়ে সিদ্ধান্তের অমিল থেকেই তারা সংঘাতে জড়াচ্ছে, যার সমাধানে জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তিনি জানান, প্রতিদিনই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দু-একটি আসনে ছোটখাটো ব্যত্যয় ঘটলেও তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে প্রশাসন।

নির্বাচনের দিন ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার গুজব উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট পুরোপুরি খোলা থাকবে। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোগ বন্ধ করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ সময় তিনি গুজব বা মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

সাংবাদিকদের অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “আগে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে লিখতে বা প্রশ্ন করতে পারতেন না। বর্তমান সরকার মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। তবে এই স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে মিথ্যা নয়, বরং সত্য সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।”

এছাড়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, “ভোটকেন্দ্রে নারীরা আপনাদের মতোই পূর্ণ নিরাপত্তায় থাকবেন।”

চট্টগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, জঙ্গল সলিমপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত অনেককেই ইতিমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না।

মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...