বিজ্ঞাপন
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।
সকাল থেকেই বন্দরের জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল এবং প্রশাসনিক ভবনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এমনকি বহির্নোঙরে পণ্য খালাস ও লাইটারেজ জাহাজ পরিচালনার কাজও বন্ধ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্দর ভবনের ৪ নম্বর গেটসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং বন্দরের ভেতরে পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল নেই বললেই চলে।
আন্দোলনরত বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল, বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও সব ধরনের আইনি হয়রানি বন্ধ করা।
সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে। তিনি অভিযোগ করেন, গত শনিবার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শ্রমিক নেতাদের হুমকি দিচ্ছে এবং শামসু মিয়া টুকু ও আবুল কালাম আজাদ নামে দুই নেতাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এভাবে ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমন করা যাবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দফায় দফায় কর্মবিরতি পালন করেছিলেন শ্রমিকরা। নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসে শুক্রবার ও শনিবার কর্মসূচি স্থগিত থাকলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগে আজ থেকে পুনরায় কঠোর আন্দোলনে নেমেছেন তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা ডাকলেও আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...