বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি ওমানের মাস্কাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশই জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই আলোচনা আরও অব্যাহত থাকবে। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভ দাবি করেছে, এই আলোচনার প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প ইরানকে পাঁচটি অত্যন্ত কঠিন শর্ত দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—ইরানকে তাদের সমৃদ্ধকৃত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে ফেলতে হবে এবং বিদ্যমান পারমাণবিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে। এ ছাড়া ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং সব ধরনের মিসাইল উৎপাদন ও প্রোগ্রাম বন্ধ করার শর্তও দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চম শর্ত হিসেবে সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই শর্তগুলো ইরানের জন্য মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ত্যাগ করার দাবিটি ইরানের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘চাথাম হাউজ’-এর পরিচালক ব্রোনওয়েন ম্যাডোক্স মনে করেন, ব্যালিস্টিক মিসাইলই হলো ইরানের একমাত্র রক্ষাকবচ। এগুলো ছাড়া ইরান ইসরায়েলি বিমানবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টিলথ বোম্বারের কাছে সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়বে। কোনো ইরানি সরকারের পক্ষেই এমন আত্মঘাতী শর্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের দেওয়া এই শর্তগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে ইরান তা প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হয়। আর বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই শর্ত প্রত্যাখ্যানের অর্থ হতে পারে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা সামরিক হামলার পথ প্রশস্ত করা। বুধবারের ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকে এই বিষয়গুলোই চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...