বিজ্ঞাপন
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ শান্তিপ্রিয় ও নির্ঝঞ্ঝাট। এ জেলায় মামলা-মোকদ্দমাও তুলনামূলক কম। তাই এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধরে রাখতে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অতীতে গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর নির্যাতন, গ্রেপ্তার এবং শ্রমিক-কৃষকদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ ও রক্তপাতের বিনিময়ে দেশ সেই সময় পার হয়ে এসেছে। এখন আর এমন মৃত্যু ও রক্তপাত দেখতে চান না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এমন একটি রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারবেন। সংঘাত ও প্রতিশোধের পরিবর্তে সমঝোতা, ঐক্য ও ভালোবাসার রাজনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওবাসীর দাবির মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ অন্যতম ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি নির্ধারণ ও অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে, উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েছেন এবং শিগগিরই শিক্ষক নিয়োগ হবে। আগামীকাল এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা জানান তিনি। মেডিকেল কলেজের জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে বলে জানান।
ভূল্লী ও রুহিয়াকে পৃথক উপজেলা করার দাবিও পূরণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে ইউএনও যোগ দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছেন।
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে সুবিধা বাড়বে। তবে এটি টেকসই করতে হলে শিল্পকারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীকে ঠাকুরগাঁওয়ে এনে সম্ভাবনা পরিদর্শন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। শিগগিরই কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগকারী আনার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চীনের সহযোগিতার কথাও তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূত ঠাকুরগাঁওয়ে এসে প্রায় ছয় হাজার শিশুকে স্কুলব্যাগ দিয়েছেন। এছাড়া ১০ শিক্ষার্থী ও পাঁচ শিক্ষককে চীন সফর করানো হয়েছে। ভবিষ্যতে শিল্পকারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে চীন থেকে বিশেষজ্ঞ আসবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নিজের মন্ত্রী থাকাকালের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের মাদরাসা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭২ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ, উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন খেলার মাঠ, আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গোবিন্দপুরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখছে বলেও জানান তিনি।
মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, এর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ কার্যক্রম ঠাকুরগাঁও থেকেই শুরু করার বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তবে চাকরি বা ঠিকাদারির পেছনে না ছুটে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তরুণদের মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ঠাকুরগাঁওকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। ব্যবসায়ীদেরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দায়িত্বের কারণে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ কিছুটা কমে গেলেও তিনি ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছ থেকে দূরে সরে যাননি। প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে তিনি যথাসাধ্য সবার সঙ্গে দেখা করবেন।
নিজের শৈশব ও শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তার জন্ম, বেড়ে ওঠা ও স্কুলজীবন ঠাকুরগাঁওয়ে। শিক্ষক রুস্তম আলী স্যার ও খান ইউসুফ স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা তাকে সততা, নেতৃত্ব ও জীবনে চলার শিক্ষা দিয়েছেন।
সবশেষে তিনি বলেন, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তপাতের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে। তাই সংঘাত বা প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসা ও ঐক্যের মাধ্যমে এমন সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...