Logo Logo

পরমাণু অস্ত্র উত্তর কোরিয়ার মানুষের অধিকার : কিম জং উন


Splash Image

উত্তর কোরিয়ার অত্যাধুনিক রকেট লঞ্চারের সামনে কিম ও তার মেয়ে। ছবি: এএফপি

প্রায় ১৪ বছরের শাসনামলে কিম জং উন উত্তর কোরিয়াকে বিশ্বমঞ্চে এক সমীহ জাগানিয়া পরমাণু শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন। অর্থনীতি বা জনকল্যাণে দেশটির অগ্রগতি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে এখন আর কারো মনে কোনো সন্দেহ নেই। কিম জং উনের ভাষায়, "পরমাণু অস্ত্র উত্তর কোরিয়ার মানুষের মৌলিক অধিকার," এবং এই প্রশ্নে তিনি কোনো ধরনের আপস করতে নারাজ।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তদারকি শেষে কিম ঘোষণা করেন যে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু প্রযুক্তি এখন চূড়ান্ত উৎকর্ষে পৌঁছেছে এবং দেশটি এখন এক নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করতে যাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাঁচ বছর পর হতে যাওয়া এই সম্মেলনে কিম জং উন তার পরমাণু কর্মসূচির পরবর্তী ধাপের মহাপরিকল্পনা উন্মোচন করবেন। এই সম্মেলনকে ঘিরে দেশজুড়ে সামরিক প্রস্তুতি তুঙ্গে। কিম ইতোমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও আধুনিক ও সম্প্রসারিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় কিম নিজে উপস্থিত থেকে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩৫৮.৫ কিলোমিটার দূরে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এর মধ্যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলের ঠিক বাইরে পড়েছে।

বরাবরের মতো এবারও কিমের সঙ্গে ছিলেন তার কন্যা কিম জু অ্যায়ে এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা। পরীক্ষা শেষে কিম বলেন, "যারা আমাদের বিরুদ্ধে সামরিক উসকানি দেয়, এই পরীক্ষার ফল তাদের জন্য হবে অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণার কারণ।"

বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক তৎপরতা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি একটি কড়া হুঁশিয়ারি। দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সিউলের পরমাণু সাবমেরিন নির্মাণ উদ্যোগকে কিম সরাসরি 'হুমকি' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স অ্যানালাইসেস-এর গবেষক লি হো-রাইউং মনে করেন, আসন্ন সম্মেলনে কিম সম্ভবত ঘোষণা করবেন যে উত্তর কোরিয়া 'পরমাণু অস্ত্রের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা' অর্জনে সফল হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পরও নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনো চুক্তি না হওয়ায়, কিম জং উন এখন আপসের পথ ছেড়ে আরও আগ্রাসী সামরিক কৌশলের দিকে এগোচ্ছেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...