বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা গেছে, কর্মবিরতির প্রভাবে বন্দর জেটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল—এই তিন বিভাগেই পরিচালন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে। বার্থ অপারেটরস, শিপহ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বোটসোয়া)-এর সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী জানান, শ্রমিক ও যন্ত্রচালক না পাওয়ায় জিসিবি টার্মিনালে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, জাহাজের অপারেশনাল অবস্থান স্বাভাবিক রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ারুল আজিম জানান, সকাল থেকে কোনো শ্রমিক কাজে যোগ দেননি এবং বন্দরের ভারী যন্ত্রপাতিও সচল করা হয়নি। বিকেলে ৪টা পর্যন্ত আজকের বিরতি চলবে। একই দাবিতে আগামীকাল রোববারও সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করা হবে।
এনসিটি টার্মিনালটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার এই দুই দিনের কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছে। এর আগে বন্দর ভবনের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ এক অফিস আদেশের মাধ্যমে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরের মতো দেশের প্রধান অর্থনৈতিক প্রবেশপথে এমন অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...