বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে ‘ওক’ (Woke) বা অতি-উদারপন্থী মতাদর্শ প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক বিবৃতিতে বলেন, পেন্টাগন মেধাবী কর্মকর্তাদের হার্ভার্ডে পাঠাত এই আশায় যে তারা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কর্মকর্তারা সেখান থেকে বিশ্বায়ন আর উগ্র আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ফিরে আসছেন, যা বাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতায় কোনো কাজে আসছে না।
পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্ত ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। তবে বর্তমানে হার্ভার্ডে অধ্যয়নরত সামরিক কর্মকর্তারা তাদের কোর্স শেষ করার সুযোগ পাবেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে হেগসেথ সাফ জানিয়ে দেন, হার্ভার্ড অতি-উদারপন্থী হতে পারে, কিন্তু মার্কিন যুদ্ধ দপ্তর তেমন কোনো আদর্শ লালন করে না।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ নিজেও হার্ভার্ড ও প্রিন্সটনের প্রাক্তণ ছাত্র, তবে তিনি হার্ভার্ডের বামপন্থী নীতির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। এমনকি তিনি হার্ভার্ডের ডিগ্রি ফেরত দিয়েছেন বলেও খবর রয়েছে।
তিনি জানান, এখন থেকে পেন্টাগন আইভি লিগভুক্ত অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও সম্পর্কের বিষয়টি পর্যালোচনা করবে এবং নিজস্ব সামরিক গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের সময় হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন কলেজ ইহুদি শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর আইনি ব্যবস্থা ও বড় অঙ্কের জরিমানার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্প হার্ভার্ডের ২৬০ কোটি ডলারের সরকারি অনুদান কমানোর পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর সরকারের এমন ক্রমবর্ধমান চাপে একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন হার্ভার্ডের সাবেক প্রেসিডেন্টসহ অনেক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। পেন্টাগনের এই পদক্ষেপ মার্কিন উচ্চশিক্ষা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘকালীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের ফাটল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...