Logo Logo

তেঁতুলিয়ায় জাল সার্টিফিকেটে ২৬ বছর মাদ্রাসায় চাকরির অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন


Splash Image

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় একাডেমিক সার্টিফিকেট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি করে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের শিলাইকুঠি বালাবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার এবতেদায়ী শাখার প্রধান শিক্ষক মাহফুজার রহমানের বিরুদ্ধে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজার রহমান নিয়োগের সময় ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে চাকরি শুরু করেন এবং বর্তমানে নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। তার এনআইডি কার্ড ও একাডেমিক সার্টিফিকেটে জন্ম তারিখ ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি উল্লেখ থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তার জন্ম ১৯৬২ সালের ১ অক্টোবর। একই গ্রামের বাসিন্দা তাহিরুল ইসলাম এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

বিষয়টি সামনে আসে একটি আদালতের মামলার মাধ্যমে। মাহফুজার রহমান বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে আদালত তার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানান, তার প্রকৃত জন্ম তারিখ ১৯৬২ সালের ১ অক্টোবর। আদালতের আদেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম তারিখটি সঠিক নয় এবং এই ভুয়া তারিখের ওপর ভিত্তি করে অর্জিত সকল কাগজপত্র ও দীর্ঘ ২৬ বছরের চাকরি অবৈধ।

অভিযুক্ত শিক্ষক মাহফুজার রহমান অবশ্য দাবি করেছেন, তার এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধনে থাকা তারিখই সঠিক। অতীতে নাবালক হিসেবে জমি কেনাবেচার সময় জন্ম তারিখের গুরুত্ব ছিল না বলেই তথ্যের ভিন্নতা থাকতে পারে। অন্যদিকে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট বদরুল আলম সরকার জানিয়েছেন, মাহফুজার রহমান মাদ্রাসায় যে সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন, তা দিয়েই চাকরি করছেন। জন্ম তারিখের অসংগতির বিষয়টি তার জানা ছিল না।

গত ১ ফেব্রুয়ারি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শওকত আলী অভিযোগটি তদন্ত করতে মাদ্রাসায় যান। তদন্তকালে আদালতের আদেশ অনুযায়ী জন্ম তারিখের ১৩ বছরের পার্থক্য খুঁজে পাওয়া গেলেও শিক্ষা অফিসারের আচরণ নিয়ে অভিযোগকারী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষা অফিসার এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু জানান, জাল জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরির বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছেন। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলমান নির্বাচনী ব্যস্ততা শেষ হলে তিনি নিজেও সরেজমিনে তদন্ত করবেন এবং দোষী সাব্যস্ত হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...