ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
পারমাণবিক চুক্তি ও সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনের ইস্যুকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দফায় দফায় সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নৌ-উপস্থিতি নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমানবাহী রণতরী, ছয়টি ডেস্ট্রয়ার এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট জাহাজ মোতায়েন রয়েছে।
মার্কিন এই রণসজ্জাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে খামেনি বলেন, “ট্রাম্প নিয়মিতই রণতরী মোতায়েনের কথা বলে ইরানি জাতিকে ভয় দেখাতে চান। কিন্তু তিনি জেনে রাখুন, ইরানিরা এসব হুমকিতে বিচলিত হওয়ার মতো জাতি নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ইরান কখনোই কোনো যুদ্ধের সূচনাকারী নয় এবং আমরা কাউকে আক্রমণ করতে চাই না। তবে কেউ যদি আমাদের ওপর হামলা বা হয়রানি করার দুঃসাহস দেখায়, তবে ইরানি জাতি তার পাল্টা কড়া জবাব দেবে।”
এদিকে তেহরান যুদ্ধের প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রেখেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ‘ন্যায্য’ আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে তা যেন কোনোভাবেই ইরানের নিজস্ব প্রতিরক্ষা বা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে খর্ব করার উদ্দেশ্যে না হয়।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সম্প্রতি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যদিও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপে এই বিক্ষোভ বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও পরবর্তী সহিংসতায় দেশটিতে ৩ হাজার ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৭১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে। তবে কোনো নিরপেক্ষ সূত্র বা আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে এই সংখ্যাগুলোর সত্যতা এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...